Menu

অভীক অর্জুন দত্ত

বাসস্টপ

সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ যযাতি যখন অফিস থেকে বেরোলেন, কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছিল। যযাতি আকাশের দিকে চেয়ে বিড়বিড় করে কয়েকটা গালাগাল দিয়ে বাস স্ট্যান্ডের শেডে দাঁড়ালেন। উষ্ণায়নের ফলে বিশ্বের কী হাল জানা নেই, তবে বাস স্ট্যান্ডের উত্তাপ খানিকটা বেশি। এক জোড়া যুবক যুবতী বেশ জোরে জোরে ইংরেজিতে ঝগড়া করে চলেছে। আর কেউ নেই বাস স্ট্যান্ডে।

যযাতি তাকালেন না। সারাক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে মাথা ধরে ছিল, এদের কথোপকথনে মাথা গলালে সে মাথার ভিসুভিয়াস হয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। একটা মিনি ছেড়ে দিলেন যযাতি। ওঠা সম্ভব না। মারাত্মক ভিড়।

শহরে বাসের তুলনায় মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেট্রো হচ্ছে, এসি বাস হচ্ছে, ক্যাবের সংখ্যাও নেহাত কম নয়, তবু রাস্তায় একবার বেরোলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে করে বাড়ি ফেরা এক ঝকমারি।

এই অফিস পাড়ায় বেশিরভাগ লোকের গাড়ি আছে। কেউ অফিসের গাড়িতে যায়। যযাতির অফিসের গাড়ি নেই। বেশিরভাগেরই নিজস্ব গাড়ি আছে।

যযাতি অবশ্য ঠিক করেই রেখেছেন ক্যাব নেবেন না। বাসে ফিরবেন। গাড়ি কেনার টাকা আছে, মাইনেও যথেষ্ট পান। তবু কিনবেন না ঠিক করেছেন। পরিবেশ দূষণে কোনরকমভাবে যোগদান না করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সর্বদা। অফিসেও নিতান্ত প্রয়োজন না পড়লে অকারণ প্রিন্ট আউট নেন না। কাগজ বাঁচানো দরকার।

যযাতি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছেলে এবং মেয়েটির কথা প্রাণপণে কানে না তোলার চেষ্টা করছিলেন, এমন সময় মেয়েটি তার দিকে এগিয়ে এসে বাংলায় বলল “আংকেল আমাকে আপনার ফোনটা দেবেন একটু? আমার একটা কল করার আছে”।

যযাতি এবারে মেয়েটার দিকে তাকালেন। বাইশ তেইশ বছর বয়স হবে। লাল রঙের একটা টপ আর জিন্স পরা। ছেলেটা অদূরে দাঁড়িয়ে বেশ ক্ষিপ্ত চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে।

মেয়েটাকে যযাতি বললেন “আমার কাছে তো ফোন নেই”।

মেয়েটা অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল “সিরিয়াসলি? আপনার কাছে ফোন নেই? আজকালকার যুগে কোন মানুষের কাছে ফোন থাকে না?”

যযাতি বললেন “আমার কাছে থাকে না”।

মেয়েটা নাছোড়, “প্লিজ আংকেল, আমার ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে, আমি ভীষণ একটা সমস্যার মধ্যে আছি। আমাকে ফোনটা দিন”।

যযাতি দেখলেন ছেলেটা বেশ কিছুক্ষণ তাদের দিকে তাকিয়ে উল্টো দিকে হাঁটা দিল। মেয়েটা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল “স্কাউন্ড্রেল”, পরক্ষণেই যযাতির দিকে তাকিয়ে বলল “সরি আংকেল। ইটস আ ব্রেক আপ”।

যযাতি বললেন “ওহ। সরি”।

মেয়েটা বলল “আমি টাকা নিয়ে বেরোই নি। দ্যাট স্কাউন্ড্রেল, আমায় ডিচ করেছে জানেন আংকেল। আমার কাছে বাড়ি ফেরার টাকাটুকুও নেই। আমি বুঝতে পারছি ফোন দিতে আপনার কোন প্রবলেম আছে...”

যযাতি এবার হেসে ফেললেন “ট্রাস্ট মি আমার কাছে ফোন নেই। আমি মোবাইল ফোন ইউজ করি না। আপনি চাইলে আমি আপনাকে বাড়ি ফেরার টাকা দিতে পারি”।

মেয়েটা এবার খুশি হল “তাহলে তাই দিন। আমাকে আপনার পেটিএম নাম্বারটা দিয়ে দিন, আমি বাড়ি পৌঁছেই টাকা ফেরত দিয়ে দেব”।

যযাতি বললেন “আমি আপনাকে বললাম আমি ফোন ব্যবহার করি না। পেটিএম কীভাবে ব্যবহার করব?”

মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে বলল “বিলিভ মি, আমি ভাবতেই পারছি না, এই দু হাজার কুড়িতে এসে কেউ ফোন ব্যবহার করে না। ওকে, আমাকে আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বারটাই না হয় লিখে দিন, আমি মানি ট্রান্সফার করে দেব”।

যযাতি মাথা নাড়লেন “দ্যাটস বেটার”।

পকেট থেকে একটা একশো টাকার নোট বের করে যযাতি মেয়েটার দিকে এগিয়ে দিলেন।

মেয়েটা বলল “একশো টাকায় কিছু হবে না আংকেল। এটা তো সল্টলেক। আমি সেই বেহালা যাব। পাঁচশো টাকা দেওয়া যাবে? ট্রাস্ট মি, আমি টাকা ফেরত দিয়ে দেব”।

যযাতি দ্বিধাগ্রস্থ হলেন। বাস স্ট্যান্ডে দুজন এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে।

এ মেয়ে ফ্রড নয় তো? পোশাক বা চেহারা দেখে কিছুতেই কিছু বোঝা সম্ভব নয় অবশ্য। তবে শহরে ফ্রডের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে পোশাক বা চেহারা দেখে যদি কোন মানুষ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করতে হয়।

যযাতিকে ইতস্তত করতে দেখে মেয়েটা বলল “আপনার কাছে ফোন থাকলে সমস্যাটা হত না বোধ হয়। আপনার বাড়ি থেকে কেউ ফোন করলে আপনি কী করেন? খোঁজ নেয় না? আপনার সম্পর্কে আমার কেমন যেন একটা কৌতূহল হচ্ছে।”

মেয়েটা হঠাৎ করে তার হাত ধরল।

যযাতি ছিটকে সরলেন এক হাত মত। বললেন “কী হচ্ছে?”

মেয়েটা খুব লজ্জিত হল, বলল “সরি সরি, এক্সট্রিমলি সরি আংকেল। আমার খুব ব্যাড হ্যাবিট এটা। চিনি না জানি না, এমন মানুষেরও হাত ধরে ফেলি”।

একটা এয়ারপোর্টের বাস এসে দাঁড়াল। যে দুজন বাস স্ট্যান্ডে ছিল সে দুজন সেটায় উঠে পড়ল। যযাতির অস্বস্তি হচ্ছিল। তিনি বললেন “আপনি দূরে থাকুন। আমার কাছে পাঁচশোটাকা নেই। তবে আর দুশো আছে। নিয়ে যান”।

মেয়েটা তার দিকে তাকিয়ে বলল “ভিক্ষা দিচ্ছেন আংকেল? ভিক্ষা তো চাই নি। আমি তো বলেছি, আপনার টাকাটা আমি ফিরিয়ে দেব”।

যযাতি বুঝলেন কোথাও একটা তাল কাটছে। কপাল ঘামতে শুরু করেছে। এইটুকু বয়সের একটা মেয়ে তার হাত ধরে ফেলল এভাবে? ঘেন্না, পিত্তি কিছুই হল না? বিয়ে হলে এত দিনে এই মেয়েটির বয়সী সন্তান হত তার। একটা বাস এসে দাঁড়াল। তার রুটের বাস না।

তবু যযাতি লাফ দিয়ে প্রচন্ড ভিড় বাসটায় উঠে পড়লেন। হৃদস্পন্দন বেশ খানিকটা বেড়ে গেছে তার।

বাসটা যখন ছাড়ল, ভিড়ের মধ্যেও যযাতি জানলা দিয়ে উঁকি মারলেন। মেয়েটা কেমন হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে চোখে চোখ পড়ায় যেন এক রাশ প্রশ্ন। বলতে চাইছে ‘কী হল?’

যযাতি আবার দ্বিধায় পড়লেন। তিনি কি উল্টোপালটা ভেবে ফেলছিলেন আসলে? আসলেই মেয়েটার কোন উদ্দেশ্য ছিল না? ঘামতে ঘামতে এবং পকেট বাঁচাতে বাঁচাতে তার লজ্জা হল। মেয়েটা একা আছে। সত্যিই তো! বাড়ি ফিরবে কী করে? অজানা অচেনা লোকের কাছে টাকা চাইলে যদি অ্যাডভান্টেজ নিয়ে নেয়? বাস স্ট্যান্ডটাও সুবিধের জায়গায় নয়। খুব বেশি লোকজন থাকে না। মেয়েটা বলল ব্রেক আপ হয়েছে। ছেলেটাও যদি কোন ভাবে মেয়েটার ক্ষতি করতে চলে আসে?

কাজটা মনে হয় ঠিক হল না ভাবতে ভাবতে যযাতি বিশ্বাস জীবনেও যেটা কোন দিন করেন না, সেটা করলেন। পরের স্টপেজেই নেমে, একটা ট্যাক্সি নিয়ে আগের বাস স্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিলেন।

 

ভাষা দিবসের সন্ধ্যেবেলায় অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বেরনোর পর বিম্বিসার গাড়ির এফ এম চালিয়ে দেখল চ্যানেলগুলো একটাও বাংলা গান বাজাচ্ছে না। বিরক্ত মুখে সে এফ এমটা বন্ধ করে দিল। কয়েকজন রেডিও জকি বাদে বাকি যারা আছে, তারা ভাঁড় ছাড়া কিছু না। যেন জোর করে হাসাবে। তার ওপর গানের থেকে বিজ্ঞাপন বেশি। কতগুলো পাঞ্জাবী গান, সারাদিন ধরে লুপে বেজে চলেছে। এত ভাল ভাল বাংলা গান থাকতে কলকাতার এফ এম চ্যানেলগুলো এই গান বাজায় কেন সারাক্ষণ? পাঞ্জাবী গান এত জনপ্রিয় হয়ে গেছে? আর নইলে পুরনো গানের অর্থহীন রিমিক্স। এ গানগুলো শুনতে না চাইলেও সারাদিন শুনিয়ে শুনিয়ে এদের ট্রেন্ডিং করে তোলাই কাজ এদের।

রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম। বিম্বিসার চুপ করে বসে ছিল। গাড়ি এক ইঞ্চিও এগোচ্ছে না। শহরের ভার বাড়ছে প্রতিদিন। এসি চলছে বলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে নি।

ফোন বাজছে। বিম্বিসার দেখল বিভাবরী ফোন করছে। ধরল “বল”।

বিভাবরী বলল “তুমি কোথায়?”

বিম্বিসার বলল “তপসিয়া। জ্যাম আছে। আরো একঘন্টা ধরে রাখো”।

বিভাবরী একটু চুপ করে বলল “সুপ্রিয় এসেছে”।

বিম্বিসার থমকে গেল, বলল “কখন?”

বিভাবরী বলল “একটু আগে। ড্রয়িং রুমে বসিয়ে এলাম। তাতানকে দেখতে চাইছে”।

বিম্বিসার বলল “তাতান কোথায়?”

বিভাবরী বলল “কলেজ গেছিল, তারপর টিউশনে আছে। ফিরবে খানিকক্ষণ বাদে। তুমি কোনভাবে তাড়াতাড়ি এসো। সুপ্রিয় আবার কী সব বলবে তাতানকে, আবার সীন ক্রিয়েট হবে, আমি কেমন নার্ভাস ফিল করছি”।

এসি চলা সত্ত্বেও বিম্বিসারের ঘাম হতে শুরু করেছে বুঝল সে। এসির তাপমাত্রা আরো কমিয়ে বিম্বিসার বলল “চেষ্টা করছি আসার। তুমি স্বাভাবিক থাকো। আরেকটা কাজ করতে পারো, তাতান যে বাড়ি পড়তে গেছে, সেখানে ফোন করে বল আমি ওকে যাবার সময় নিয়ে যাব। আপাতত তাতান যেন ওখানেই থাকে”।

বিভাবরী বলল “আর আমি এখানে এতক্ষণ সুপ্রিয়কে নিয়ে একা বাড়িতে থাকব? তাতানকে নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করবে আর আমাকে উত্তর দিয়ে যেতে হবে?”

বিম্বিসার বলল “তুমি ভেতরের ঘরে থাকো। ওকে চা পাঠাও। টিভি চালিয়ে দাও। বসে থাকুক”।

বিভাবরী একটু ভেবে বলল “ওকে। তুমি এসো শিগগিরি”।

ফোনটা কেটে দিল বিভাবরী। গাড়ি এগনো শুরু হয়েছে পার্ক সার্কাসের দিকে। বিম্বিসার বুঝতে পারছিল তার প্রেশার চড়ছে। সুপ্রিয়কে এখনই আসতে হবে? তাতান যখন ছোট ছিল তখন তো এত আসত না! বড় হলেই পিতৃত্ব ফলাতে আসতে হবে! মুখের ভিতরটা তেতো হচ্ছিল তার। তৃণা মারা যাবার পর থেকে সে আর বিভাবরীই তাতানকে বড় করল। সে সময়টা একেবারেই আসে নি সুপ্রিয়। এদিক সেদিক ঘুরে বেরিয়েছে। এক টাকাও পাঠায় নি। বিম্বিসার সেসব চায়ও নি কোনদিন। নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান কাছে আশীর্বাদস্বরূপ এসেছিল তাতান। এখনও তাতান সুপ্রিয়কে খুব একটা পছন্দ করে না। সুপ্রিয় এলে মেয়ে দেখাও করতে চায় না।

সুপ্রিয় এখন হিমাচল প্রদেশে থাকে। অথচ মাঝে মাঝেই মেয়েকে দেখতে চলে আসছে। এত দূর থেকে বারবার সব কাজ ফেলে আসছে। বিম্বিসারের ভাল লাগছিল না। জীবন এত জটিল হবে কেন? তৃণা মারা যাবার পর সুপ্রিয় পাগল পাগল হয়ে গেছিল। রাজ্য ছেড়ে চলে গেল। বিম্বিসার আর বিভাবরী তাতান ছাড়া কিছু বোঝে নি।

এখন হঠাৎ করে সুপ্রিয় এসে জটিলতা বাড়িয়ে যাচ্ছে। এর আগের বারে এসে দুম করে তাতানের সামনেই বলে বসল মেয়েকে এত স্বাধীনতা দিয়ে ঠিক করছে না তারা। সন্ধ্যেবেলার মধ্যে ঘরে ফেরাটা রেগুলার মণিটরিং করে যেন বিভাবরী।

তখন কিছু বলে নি বিভাবরী, কিন্তু পরে বিম্বিসারের সামনে কেঁদে ফেলেছিল। এখন এসব জ্ঞান দেওয়ার মানে কী? মেয়ের বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে সবটা তো তারাই সামলালো। এখন বাপগিরি করছে কেন? দখলদারি ফলাতে চাইছে? কী হাস্যকর!

তাতানও সুপ্রিয়কে পছন্দ করে না। তবু বাবা বলে কথা। তারাই বুঝিয়ে শুনিয়ে সুপ্রিয়র সঙ্গে তাতানের কথা বলায়।

গাড়ি আবার জ্যামে পড়েছে। বিম্বিসার স্টিয়ারিঙে ঘুষি মারল বিরক্তিতে।

ফোনটা আবার বাজতে শুরু করেছে। বিভাবরীই, ধরল বিম্বিসার “বল”।

“তাতানের ফোন পাচ্ছি না। সুইচড অফ বলছে। টিউশনের ওখানে ফোন করে জানলাম আজ যায় নি। কী করব এবার?”

বিভাবরীর কথাটা আর্তনাদের মত শোনাল।

 

বৃষ্টি যে সকালে হবে বোঝা যায় নি।
ট্যাক্সিতে ওঠার পরে বৃষ্টি শুরু হল। যযাতি মেয়েটার জন্য চিন্তিত হলেন।
বুঝে উঠতে পারছেন না মেয়েটা ঠিক কী চায়।
প্রজন্মের পার্থক্য দিন দিন বেড়েছে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন “আমরা নতুন যৌবনের দূত”।
এই লাইনটার সংজ্ঞা প্রতিটা যুগে একটু একটু করে পাল্টেছে। তাদের যৌবনে তারা যেভাবে পৃথিবীটা দেখেছিলেন, এই প্রজন্ম সেভাবে দেখে না। শরীর নিয়ে
ছুতমার্গও এদের কম। নইলে যেভাবে হঠাৎ করে মেয়েটা তার হাত ধরে ফেলল, তাদের প্রজন্মে এটা সম্ভব ছিল না। এদের বুঝে ওঠা অত সহজ নয়। দুরকম ব্যাপারই হতে পারে।
হতে পারে মেয়েটা সরলভাবেই তার হাত ধরেছে। অন্যদিকে হতে পারে, ভেবে নিয়েছে তার মত একজন মধ্যবয়স্ক লোক, কমবয়সী মেয়ের স্পর্শ পেয়ে টাকা বের করে দেবে। অনেক কিছুই হতে পারে। যযাতি আর বেশি ভাবতে পারলেন না।
বৃষ্টির মধ্যে ট্যাক্সিটা বাস স্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছলে যযাতি দেখলেন মেয়েটা তখনও একা একাই দাঁড়িয়ে আছে।
ট্যাক্সি থেকে যযাতি নামতেই মেয়েটা উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠল “আরে আংকেল আপনি চলে গেছিলেন কেন?”
যযাতি ইতস্তত করে বললেন “বাসটা দেখে রিফ্লেক্স একশন হল আর কী। তারপর মনে হল আপনাকে টাকাটা না দিয়ে গেলে আপনি অসুবিধেয় পড়তে পারেন। আপনি এই ট্যাক্সিটা করে চলে যেতে পারেন। আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি”।
মেয়েটা বলল “ওরে বাবা, এটা তো ইয়েলো ট্যাক্সি, এদের জিপিএসও নেই। খুব রিস্ক হয়ে যাবে”।
যযাতি শ্বাস ছেড়ে বললেন “ঠিক আছে, উঠুন। আমি যাচ্ছি”।
মেয়েটা খুশি হয়ে মাথা নেড়ে বলল “থ্যাংক ইউ। আপনাকে বিশ্বাস করা যায়। আপনার মধ্যে বেশ একটা পারসোনিলিটি আছে”।
মেয়েটা ট্যাক্সিতে উঠল। যযাতিও উঠলেন। মেয়েটার কথায় হাসবেন, না কাঁদবেন বুঝলেন না৷ তার মধ্যে পারসোনালিটি দেখে ফেলল এ!
ট্যাক্সিচালককে বললেন “বেহালা”।
ড্রাইভার বেঁকে বসল “ওদিকে তো যাব না”।
যযাতি বিরক্ত গলায় বলল “এই বৃষ্টিতে আমি কোত্থেকে আর অন্য কোন গাড়ি পাব?চলুন, এক্সট্রা টাকা দেব না হয়”।
ড্রাইভার গজগজ করতে করতে গাড়ি স্টার্ট দিল।
মেয়েটা বলল “হতে পারে আপনি স্মার্ট ফোন ইউজ করেন না, বাট ইউ আর এ রেসপন্সিবল সিটিজেন। একজন মেয়েকে একা ফেলে চলে গিয়ে আপনার মনে অপরাধবোধ জেগেছে। অথচ দেখুন, আমি যে ছেলেটাকে ভালবাসতাম, সে জানোয়ারটা আমাকে
কীভাবে একা ফেলে চলে গেল। ওর জন্য আমি বাড়িতে মিথ্যে বলে এতটা চলে এসেছিলাম”।
যযাতি বললেন “আপনার বাড়িতে চিন্তা করছে নিশ্চয়ই। কোন পিসিওতে দাঁড় করাতে বলব?”
মেয়েটা হাত নেড়ে বলল “তার দরকার নেই। চলে যাচ্ছি তো। কোথাও আটকে গেলে দেখা যেত। সব লোকের কাছে তো আর ফোন চাওয়া যায় না, তাছাড়া বাস
স্ট্যান্ডটাও এমন জায়গায়, লোকই আসে না তেমন। ছাতাও ছিল না এদিকে। সব মিলিয়ে এরকম পরিস্থিতি তো সব সময় হয় না…”
মেয়েটা একগাদা বক বক করে যেতে লাগল।
যযাতি চোখ বুজলেন।
একটা ফোন গোটা সভ্যতাকে পালটে দিয়েছে। আজ থেকে কুড়ি বছর আগেও তো মোবাইল সেভাবে ব্যবহৃত হত না। সে সময়টাতে তো এরকম দশা ছিল না! অথচ আজকাল একটা ফোন না পেলে বাড়ির লোক চিন্তায় মরে। সর্বক্ষণ মানুষ ডুবে আছে যন্ত্রটায়।
নিজে ফোন ইউজ করেন না বলেই দেখতে পান পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রতিটা মানুষ ফোনে মুখ গুঁজে বসে আছে। এ এক অদ্ভুত মহামারী, ছড়িয়ে পড়ছে সেকেন্ডে সেকেন্ডে।
কিছুটা পথ গিয়েই ট্যাক্সিটা আটকে গেল। ভয়াবহ জ্যাম। গিজগিজ করছে গাড়ি। যযাতি অবাক হয়ে ড্রাইভারকে বললেন "কী হল আবার?"
ড্রাইভার উত্তর না দিয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে গেল। কয়েক মিনিট পরে এসে বলল "রাস্তা আটকে গেছে। ঝামেলা লেগেছে বলছে বাইপাসে। বাস পোড়াচ্ছে"।
মেয়েটা বলল "শিট। যেই ভাবলাম ড্রাইভার কাকুর ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে জানাব, আমার বাবা আর মা, কারো নাম্বারই মনে পড়ছে না"।
যযাতি চমকে উঠে মেয়েটার দিকে তাকালেন।

 

বাসস্টপ

“মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সব থেকে বড় সমস্যা হল, আমরা আমাদের স্মৃতিশক্তিটাকেই ফোনকে সমর্পণ করে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছি। অথচ আমার
প্রায় সবার নম্বর মুখস্থ থাকে”।
কথাগুলো অস্ফূটে বলে চুপ করে গেলেন যযাতি।
মেয়েটা বলল “অথচ আপনার নিজের কাছেই ফোন থাকে না। ফোন নাম্বার মুখস্থ করে কী লাভ হয়?”
যযাতি বললেন “অফিসে ল্যান্ডলাইন আছে। আমার বাড়িতেও। প্রয়োজনে সেখান থেকে করি”।
মেয়েটা মুগ্ধ চোখে যযাতির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল “আপনি সংরক্ষণযোগ্য। এখনো পৃথিবীর লোক আপনার দেখা পায় নি কেন? আপনাকে নিয়ে টিভি শো হওয়া উচিত”।
বাইরে উত্তেজনা বাড়ছে। তাদের ট্যাক্সির বাইরে একটা ভিড়ে গিজগিজে বাসে লোকজন তবু কেমন নির্লিপ্ত। এ দেশের সাধারন মানুষ। এদের নির্লিপ্ততা অভ্যাস করতে হয় না। প্রকৃতিতে ঢুকে যায়। জনবিস্ফোরণের ফলে জনের গুরুত্ব কমে যায় কি? যযাতি চিন্তিত হলেন। প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেছিলেন একটা তৃতীয়
বিশ্ব দেশগুলোর সুবিধে অসুবিধে নিয়ে।
প্রতিদিন মানিব্যাগ বাঁচিয়ে বাসে যেতে যেতে তৃতীয় বিশ্বের দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবেন। একসময় কাগজে দেখলেন উত্তর সম্পাদকীয়তে প্রবন্ধ
পাঠানো যায়। যযাতি ঠিক করলেন এই বিষয়েই কিছু লিখবেন। শুধু পড়লেই তো হবে না। বাস্তবটা নিজের চোখে দেখতে হবে। পুঁথিগত বিদ্যার প্রয়োজন আছে ঠিকই,তার থেকেও বেশি প্রয়োজন আছে সমস্যাগুলোকে নিজের চোখে দেখার, নিজের কানে
শোনার, নিজ ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করার।
ট্যাক্সিচালক নেমে গেছে আবার ট্যাক্সি থেকে।
যযাতি আরও কিছু ভাববেন বলে ভাবছিলেন, এমন সময় মেয়েটা বলে উঠল “আপনি ঠিক কবে থেকে গুহামানব হবেন?”
যযাতি অবাক হয়ে বললেন “মানে?”
মেয়েটা বলল “মানে এভাবে মোবাইলহীন জীবন কাটাবেন?”
যযাতি বললেন “মোবাইলহীন জীবনের সঙ্গে গুহামানব হবার কোন সম্পর্ক নেই।
মোবাইল তারা ব্যবহার করে, যাদের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন পড়ে।
আমায় অফিসের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয় না”।
মেয়েটা বলল “ইন্টারেস্টিং। ইউটিউব ভিডিও, গান শোনা, সিরিজ দেখা এটসেট্রা, এটসেট্রা করেন না? টিভি দেখেন না?”
যযাতি মাথা নাড়লেন “না”।
মেয়েটা হাঁ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলল “তাহলে কী করেন?”
যযাতি বললেন “বই পড়ি”।
মেয়েটা মাথা নেড়ে বলল “তাহলে খুব ভাল। আমার বাবাও পড়তে খুব ভালবাসে। আই মিন, আমার নিজের বাবা না, আমাকে যে বড় করেছেন, সেই বাবা”।
যযাতি বললেন “বুঝলাম না। আপনার নিজের বাবা নেই?”
মেয়েটা বলল “আছে। তবে থাকে না এখানে। ছোট থেকে বেশি দেখি নি। ইদানীং আসে।
আমার কথা মনে পড়ে নাকি। এসে এক গাদা জ্ঞান দেবে। কে শুনবে ওর জ্ঞানের কথা? যখন থাকার দরকার ছিল তখন তো থাকে নি”।
মুখ বাঁকাল মেয়েটা।
খুব জোরে হইচইয়ের আওয়াজ আসছে। যযাতি এবার চিন্তায় পড়লেন। শহরটা দিন দিন অচেনা হয়ে পড়ছে। আবার কোথায় কী ঝামেলা শুরু হল কে জানে!
মেয়েটা বলে চলল “আপনার এই মোবাইল বিরোধিতা দেখে আমারও একটা মজার কথা মনে
পড়ল। এই যে ছেলেটাকে দেখলেন না, এই যে আমার এক্স হল, এর সঙ্গে তো আমি সারাদিন মোবাইলেই চ্যাট করে যেতাম। সারাদিন মানে লিটারেলি সারাদিন। মা
রেগে যেত, আমি যদি বলতাম মা পেট ব্যথা করছে, তাতেও মা বলবে মোবাইল রাখ ঠিক হয়ে যাবি”।
হাসতে শুরু করল মেয়েটা। অপ্রকৃতিস্থের মত হাসি।
যযাতি কয়েক সেকেন্ড মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন “আপনি খুব স্ট্রেসে থাকেন, তাই না?”
মেয়েটা হাসি থামিয়ে থতমত হয়ে বলল “আপনি কী করে জানলেন?”
যযাতি বললেন “তার জন্য রকেট সাইন্টিস্ট হবার প্রয়োজন নেই। আপনার অকারণ হাসি সেটা বোঝায়। অতিরিক্ত মোবাইল নির্ভরতা ডিপ্রেশন বাড়ায় বৈকি”।
মেয়েটা মাথায় হাত দিয়ে বলল “আপনি আমাকে আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে নামিয়ে যাবেন। আপনি যদি আমার বাবা মার সঙ্গে কথা বলেন, আমি খবর হয়ে যাব। সিরিয়াসলি। এমনিতেই মোবাইলের কুফল নিয়ে সকাল বিকেল লেকচার শুনি, তার উপর
আপনি যদি শুরু করে দেন, প্লিজ…”
পুলিশের গাড়ির শব্দ আসছে। ট্যাক্সিচালক দৌড়ে ট্যাক্সিতে উঠে বলল “পুলিশ এসেছে। এবার শিওর লাঠি চার্জ হবে”।
যযাতি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আজকে লেখাটার জন্য সময় দিতে পারবেন না বোধ হয়।
রাতে মাংস করবেন ভেবেছিলেন। সেটাও করার সময় পাবেন না আর।
মেয়েটা কী করে বাড়ি থেকে এতটা দূরে এসেছিল আজ? প্রেম করতে? প্রেম জিনিসটা এতগুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবনে?

 

বাসস্টপ

 

“আমার মেয়ে কোথায় বিভা?”

বিভাবরী ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই প্রশ্নটা করল সুপ্রিয়। বিভাবরী টিভির দিকে তাকাল।

শহরে একটা বাস অ্যাকসিডেন্ট থেকে হঠাৎ করে ঝামেলা শুরু হয়েছে। প্রায় সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বাসে ঢিল ছুঁড়ছে উত্তেজিত জনগণ।

সুপ্রিয় কেমন একটা তেড়িয়া ভঙ্গিতে বসে আছে।

বিভাবরীর কান্না পাচ্ছিল। বাবা, মেয়ে দুজনেই রাস্তায়। সামনে সুপ্রিয়। সে কীভাবে একা সব কিছু সামলাবে? ওই দুজন কখন ফিরবে সেটা তো সুপ্রিয়র সঙ্গেও আলোচনা করা যাবে না! আরেক ঝামেলা লাগবে।

সে বলল “তাতান শুধু তোমার মেয়ে সুপ্রিয়?”

প্রশ্নটা শুনে সুপ্রিয় কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে বলল “আমি এমনি এমনি এত দূর থেকে এখানে ছুটে আসি না বিভা। আমি গুরগাও যাচ্ছিলাম গত বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে হালকা হতে নেমেছি, দেখি একটা লাশ। চোদ্দ পনেরো বছরের মেয়ের। জামা কাপড় নেই। আমার মনে হচ্ছিল হৃদপিণ্ডটা বেরিয়ে আসবে। মনে হচ্ছিল, লাশটা তাতানের। তারপর থেকে আমি ঘুমাতে পারি না, বিশ্বাস কর। আমাকে হন্ট করে লাশটা। চোখ বুজলেই আমি মেয়েটাকে দেখতে পাই”।

সুপ্রিয় দু হাত দিয়ে মুখ ঢাকা দিল।

বিভাবরী চুপ করে বসল। তার নিজেরও প্রবল অস্বস্তি হচ্ছিল টিভির দিকে তাকালেই। সে বলল “এ শহরটা তো গুরগাও না সুপ্রিয়। এত ভয় পেও না”।

সুপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে হাসল “হাহ... এই শহর। তুমি বলছ এই শহর। পৃথিবীর কোন শহর মেয়েদের জন্য সেফ বল তো? মেয়েদের কেউ মানুষ বলে ভাবে নাকি?”

বিভাবরী টিভির দিকে তাকাল। একদল হিংস্র উন্মত্ত জনগণ পুলিশের দিকে ঢিল ছুঁড়ছে। রাস্তায় টায়ার পুড়ছে। বুকের ভেতরটা ভয়ে কুঁকড়ে গেল বিভাবরীর। এ সব কী হচ্ছে এই শহরে? কী ভয়ংকর! তাতান কোথায় এখন? ওই ছেলেটার সঙ্গে না তো?

তাতান তাকে আর বিম্বিসার দুজনকেই ফেসবুকে ব্লক করে রেখেছে। ফেক থেকে তাতানের প্রোফাইল দেখেন তিনি। ছেলেটা কেমন যেন! বড়লোকের বখাটে দেখেই বোঝা যায়। তাতানকে যতবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, বলেছে তার বন্ধুর বেশি কিছু না।  

বন্ধুর থেকেও যে বেশি কিছু সেটা বিভাবরী বুঝেছে। কিন্তু বলে নি। মেয়ের ওপর তার ভরসা আছে। জানে, ঠিক বলবে। কিন্তু মেয়েটা এখন ছেলেটার সঙ্গে থাকে যদি তাহলে ঠিক কী অবস্থায় আছে?

সে বলল “সন্তানের মা কি শুধু জন্ম দিলেই হওয়া যায় সুপ্রিয়? আমি কী অবস্থায় আছি সেটা বুঝতে পারছো? একটু অপেক্ষা কর না হয়”।

সুপ্রিয় অস্থির ভাবে মাথা নাড়ল “করছি। অপেক্ষাই তো করছি। কীভাবে মেয়েটাকে দূরে ঠেলে দিয়েছি বলো? তোমরা না থাকলে যে কী হত! কতটা স্বার্থপর একটা জীবন কাটালাম। নিজের ওপরেই ঘেন্না হয়। মনে হয় নিজের গালে নিজেই চড় মারি। তবু বুঝতে চাই না। আমি থাকতে পারি না আর এত দূরে। সারাক্ষণ মনে হয় তাতানকে দেখি। মেয়েটা কী করছে, কত বড় হয়ে গেল আমার অলক্ষ্যেই। অথচ আমি বাবার কর্তব্য কিচ্ছু পালন করলাম না”।

সুপ্রিয় মাথায় হাত দিল।

বিভাবরী বলল “এভাবে ভেবো না আর। কী করবে বল? একটাই তো জীবন। যা হয়ে গেছে, সেটাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তুমি এখন মাথা ঠান্ডা কর। নিজের শরীরটা খারাপ কোর না। তাতান আমাদের সবার মেয়ে। কিচ্ছু হবে না ওর”।

সুপ্রিয় বলল “জানি। কিচ্ছু হবে না জানি। আমার ছুটি ছিল না। আমি দিল্লিতে একটা কাজে গেছিলাম। কী মনে হতে একগাদা টাকা খরচ করে কলকাতা চলে এলাম। কাল ভোরে চলে যাব। শুধু তাতানকে একটিবার দেখতে এসেছি। তোমরা ভেবো না, তাতানকে আমি তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নিতে আসি না। রক্ত তো...”

সুপ্রিয় কেঁদে ফেলল।

টিভিতে একজন পুলিশকে দেখাচ্ছে। ঢিল লেগে মাথা থেকে রক্ত বেরোচ্ছে।

সেই খবরটাও আবার এক্সক্লুসিভ ট্যাগ মেরে দেখাতে হচ্ছে। একজন মানুষের মাথা ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে, শহর উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে, তবু এক্সক্লুসিভ হতেই হবে সে জিনিসটাকে।

বিভাবরী উঠল। বিম্বিসারকে ফোন করতে হবে। বার বার ফোন করলে লোকটা বিরক্ত হবে ঠিকই, কিন্তু সে কী করবে? চিন্তাটা তো আর আটকানো যাবে না!

সুপ্রিয় একা একা বসে থাকল। একজন হেরে যাওয়া মানুষ যেভাবে বসে থাকে।

(ক্রমশ)  


(ক্রমশ)