Menu

অভীক অর্জুন দত্ত

সোশ্যাল সার্ভিস ইত্যাদি.../অভীক দত্ত

 

-কীরে! হঠাৎ ডাকলি?

-বস বস কথা আছে।

-কথা আছে? তা কথাটা তো ফোনে

বলতে পারতি।

-তা পারতাম। কিন্তু অনেকদিন দেখা হয় নি। দেখা হয়ে ভাল হল না?

-তা ঠিক। তা বল কী বলতে ডেকেছিস।

-বলছি। তার আগে বল। কী খাবি?

-আমি? আপাতত কিছু খাব না। আগে বল তো কী বলবি।

-ওকে। বলি তাহলে। দেখ ঝিমলি,

আসলে ক’দিন হল আমার ওজন নিয়ে আমি খুব চিন্তিত।

-তা হবার কারণ আছে। তোর ওজন

বেশ বেড়েছে।

-হ্যাঁ। এই তো। তুইও বলছিস। মা-ও  একই কথা বলে রোজ।

-তা বেশ তো, কোন জিমে জয়েন করে

যা।

-করেছি তো। কিন্তু তাও... একটা সমস্যা

দেখা দিচ্ছে।

-কী?

-এই দেখ না, আজকাল তো চাকরি করি।

রেস্তোরাঁয় যাই। ওখানে খাওয়া দাওয়াও

ভালই করি। সমস্যা হল, খাবারের পরিমাণ

নিয়ে।

-পরিমাণ নিয়ে? মানে অতটা খেতে পারিস

না?

-একজ্যাক্টলি। দেখলি তো, তুই আমার

কত ভাল বন্ধু! আসল কারণটা ধরে

ফেলেছিস! আচ্ছা আরসালানের যে স্পেশাল

বিরিয়ানিটা দেয় ওটা একা খেতে পারিস?

-পাগল? ওটা অনেকটা।

-একদম। আচ্ছা, মান্দারিনে যে ক্যান্টনিজ

রাইসটা দেয়, ওটাও কি একা খাওয়া যায়?

-নাহ, আমি অন্তত পারব না।  

-আর মোমো ফুল প্লেট?

-খাই, তবে কষ্ট হয়।

-একজ্যাক্টলি। দেখ, আমি তোর সাথে

স্কুল থেকে পড়ি। আমি দেখেছি, সব খাবারই তুই ৪০% মত খাস। বাকিটা পারিস না। মানে তোর স্টমাকের ক্যাপাসিটি নেই অতটা।

-হ্যাঁ। তা ঠিক।

-হ্যাঁ। আর আমার কেস বলি তোকে। জিম জয়েন করার পরে একজন  ডায়েটিশিয়ানকে দেখিয়েছি। উনি বলেছেন সব খাবার অন্তত ৪০% কম খেতে হবে।

প্রপার ডায়েট তো মেন্টেন করতেই হবে তার সাথে খাবারের পরিমাণও কমাতে হবে।

-তো? আমি কী করব?

-এখানেই তো তোর কাজ শুরু হবে।

-মানে?

-মানে, দেখ তুই তো আমার কত দিনের

বন্ধু। তোর তো আমার প্রতি একটা দায়িত্ব আছে।

-যেমন?

-যেমন, এই যে আমি একা একা রেস্তোরাঁয়

যাই, সব খাওয়া একা একা খাই, কোলেস্টরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন সব বেড়ে গিয়ে একটা ভয়াবহ রক্তারক্তি ব্যাপার হয়ে যেতে পারে। তা তুই যদি দায়িত্বটা নিয়ে আমার

সাথে রেস্তোরাঁগুলোতে যাস, খাবারগুলোতে ভাগ বসিয়ে অন্তত ৪০%ও খেয়ে আমার শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে বাঁধা দিস,

আমাকে ফিট হতে সাহায্য করিস... মানে

সবটাই আমাকে বাঁচাবার স্বার্থে আর কী!

দেখ এটাও তোকে অলাভজনক ভাবে করতে বলছি না। তুই যদি আমাকে বিয়ে করিস, মানে স্ত্রী হিসেবেও তো তুই তখন

রান্নাগুলো কম তেলে করবি, আমার স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রেখে... মানে ...

-মানে?!!! 

-মানে পুরোটাই তোকে সোশ্যাল সার্ভিস  করতে হবে আর কী! আমাকে বাঁচানোর

স্বার্থে।

-এটা কী ছিল!!! তুই কি আমায় প্রপোজ

করলি?

-ওভাবে দেখছিস কেন... ব্যাপারটা সোশ্যাল সার্ভিস হিসেবে দেখ। একটা অসহায় ছেলেকে বাঁচাতে, তুই আমাকে বিয়ে কর,

এটাই বলতে চাইছি আর কী!!!

-শুয়োর!!!

-খাবি? চিলি পর্ক কিন্তু দারুণ লাগে!  

-উফ!!! খাওয়া ছাড়া আর কিছু জানিস!!!

-জানি তো!

-কী জানিস?

-তোকে... এই... আমায় বিয়ে করবি?

-ইউ আর ইম্পসিবল... বিলিভ মি...

-যাই হোক, হ্যাঁ ধরে নিচ্ছি তাহলে! এই ছোকরা, এদিকে দুটো... না না... একটা ফিসফ্রাই আর দুটো ছুরি আর কাঁটা চামচ দিয়ে যাও তো! আজ থেকেই ডায়েটিং  শুরু। হুহ!!!